Sunday, September 30, 2018

নরসিংদীর রায়পুরায় ১৮ বছরেও এমপিও ভুক্ত হয়নি একমাত্র রহিমা হক চেতনা বিকাশ মহিলা কলেজ

রহিমা হক চেতনা বিকাশ মহিলা কলেজ

বশির আহম্মেদ মোল্লা, নরসিংদী খবর: নরসিংদীর রায়পুরায় র্দীঘ ১৮ বছর পেরিয়ে গেলেও এমপিও ভুক্ত হয়নি একমাত্র রহিমা হক চেতনা বিকাশ মহিলা কলেজ। জানাগেছে, নরসিংদী জেলা রায়পুরা উপজেলা বাহেরচর গ্রামের দেশ বরেণ্য কৃষক নেতা মুক্তিযোদ্ধের অন্যতম সংগঠক প্রয়াত ফজলুল হক খোন্দকার এর সার্বিক প্রচেষ্টায় রহিমা হক চেতনা বিকাশ মহিলা কলেজটি প্রতিষ্ঠা করেন ১৯৯৯ইং সনে। সরকারী অনুমতিপত্র পায় কলেজেটি ২০০০ সালে । ২০০১ সালে তৎকালীন সংসদ সদস্য রাজিউদ্দিন আহমেদ রাজু এমপিও ভুক্তর প্রস্তাব করে ছিলেন । কিন্তু আওয়ামীলীগ সরকারের শেষ সময় হওয়ায় এবং পরবর্তীতে বিএনপি জোট ক্ষমতায় আসার পর অদৃশ্য কারনে কলেজটির এমপিও তালিকা থেকে বাদ পড়ে যায়। দেশের বৃহত্তম উপজেলা রায়পুরার ২৪টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভা, বাহেরচর এলাকায় মনোরম পরিবেশে একমাত্র মহিলা কলেজ গড়ে তুলেন। কলেজে কম্পিটার ল্যাবসহ ৪ তলা ভবন ১টি, পাশে ১তলা পুরাতন ভবন ১টি,২টি টিনসিট ঘর রয়েছে। বিশাল মাঠ রয়েছে। কলেজ এর পাশে শতদল বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় রয়েছে। এ উপজেলায় প্রায় ৭ লক্ষাধিক লোকের বসবাস। নারী শিক্ষা বিস্তারের লক্ষে বর্তমানে অত্র কলেজে চার শতাধিক শিক্ষার্থী পড়াশোনা করে গ্রামীণ এলাকাকে সুশিক্ষিত করে তুলছে। কলেজের শিক্ষক কর্মচারীরা বিনা বেতনে শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে অধীর আগ্রহে অপেক্ষায় ছিলেন এই বুঝি তাদেরকে এমপিও ভুক্ত করা হলো । এমপিও ভুক্ত না হওয়ায় ফলে অন্যত্র চলে যাচ্ছেন অনেক শিক্ষক। পাঠদানে ব্যহত হওয়ার আশংকায় ৪ শতাধিক শিক্ষার্থীর । মানবেতর জীবনযাপন করছেন শিক্ষক/শিক্ষিকা/ কর্মচারী ২২ জন । কিন্তু দূর্ভাগ্যের বিষয় সর্বশেষ এমপিওতেও যখন তাদেরকে এমপিওভূক্ত করা হয়নি তখন তাদের মাঝে মানসিক অশান্তি চরম আকার ধারন করেছে । পরিবার-পরিজন,আতœীয় স্বজনের কাছে তারা হেয় প্রতিপন্ন হচ্ছেন । চরম হতাশা সৃষ্টি হয়। এ পর্যন্ত ১৫ জন শিক্ষক চাকুরী ছেড়ে অন্যত্র চলে গেছেন আবার অনেকে অন্যত্র চলে যেতে প্রস্তুতি নিচ্ছেন। শিক্ষার্থীদের পাঠদান অব্যহত রাখতে অনেক শিক্ষক তার শিক্ষত গৃহবধুকে দিয়ে হলেও শিক্ষক সংকট দূর করার চেষ্ট করে যাচ্ছেন। কিন্তু এভাবে কতদিন চলবে এ কলেজে ৪ শতাধিক শিক্ষার্থীর পাঠক এমন প্রশ্ন অভিভাবক ও সচেতন মহলের। বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকারের সময়েও অত্র কলেজটি এমপিও ভুক্ত হয়নি। এ ব্যাপারে অত্র কলেজ অধ্যক্ষ ড. মোঃ শফিউল আজম কাঞ্চন বলেন, কলেজটি এমপিভূক্ত হলে, এ বৃহৎ উপজেলায় নারী শিক্ষা বিস্তার লক্ষ্যে বিশেষ ভূমিকা রাখবে বলে আমার বিশ^াস। তাই আমরা প্রাণের বিনিময়ে হলে কলেজটি রক্ষা করার আপ্রান চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। এদিকে এতসব হতাশার মাঝেও গত কয়েক বছর ধরে ধারাবাহিকভাবে প্রায় শতভাগ ফলাফল অর্জন করে আসছে। দেশের নামী-দামী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সাথে পাল্লা দিয়ে বরাবরের মত ভাল ফলাফল অর্জন করে সুনাম ধরে রেখেছেন। লেখাপড়ার পাশা-পাশি খেলা দোলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডে এগিয়ে রয়েছে। পূবে কলেজটি রায়পুরা চেতনা বিকাশ মহিলা কলেজ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হলেও এমপিভূক্ত না থাকায় চালানো খুব কঠিন হয়ে পরে কলেজটি কারো নামে দেয়া যায় কিনা সে ব্যাপারে উদ্যোগ নিলে আমাদের পাশর্^তী গ্রাম মানিক নগররে সম্ভান্ত পরিবারের ফজলুল হক ও রহিমা হক এর সুযোগ্য সন্তান ইঞ্জিনিয়ার এনামুল হক মানিক যিনি বর্তমান আমেরিকার প্রবাসী রয়েছেন তিনি তৎকালীন সময়ে প্রায় ৫০ লক্ষ টাকা কলেজের জন্য অনুদান প্রদান করেন এবং অত্র কলেজের নাম ও পরিবর্তন করে রহিমা হক চেতনা বিকাশ মহিলা কলেজ নাম করন করা হয়। তিনি সব সময় কলেজ পরিচালনা করতে সাহায্য সহযোগিতা করে যাচ্ছে। কলেজটি আজ প্রায় চার শতাধিক ছাত্রী পড়া শুনা করছে। কেননা রায়পুরা উপজেলার প্রায় ২৪টি ইউনিয়নের একমাত্র মহিলা করেজ হলো রহিমা হক চেতনা বিকাশ মহিলা কলেজ নারী শিক্ষা বিস্তারের লক্ষে কলেজটি অবদান রাখবে। বর্তমানে কলেজটি এমপিভূক্ত করা হয় তাহলে সারাদেশের মধ্যে আরো ভাল ফলাফল অর্জন করে সুন্দর ভাবে চালাতে পারবে বলে বিশ^াস করি। মাননীয় প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনার হস্থক্ষেপ কামনা করে, দ্রুত কলেজটি এমপিও ভুক্ত করতে সরকারের কাছে জোর দাবী জানাচ্ছি। কলেজ পরিচালনা কমিটির সভাপতি প্রকৌশলী জিয়াউল হক সেলিম বলেন,রহিমা হক চেতনা বিকাশ মহিলা কলেজ এর প্রতিষ্ঠাতা ফজলুল হক খোন্দকারসহ এলাকাবাসীর প্রচেষ্ঠায় অনেক দুর এগিয়ে নিয়ে আসতে সক্ষম হয়েছি। এই কলেজ এমপিও ভুক্ত করতে কলেজ এর বিভিন্ন অনুষ্ঠানে বিভিন্ন সময় আশ্বাস দিয়ে ছিলেন ড.কামাল হোসেন,সাবেক মন্ত্রী সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত,মানিক ভট্রাচার্যসহ বিভিন্ন রাজনীতি দলের নেতৃবৃন্দ। এই সরকার দ্রুত কলেজটি এমপিও ভুক্ত করতে জোরদাবী জানাচ্ছি। ইঞ্জিনিয়ার এনামুল হক মানিক বলেন,উক্ত কলেজ অধ্যক্ষ ড. মো: শফিউল আজম কাঞ্চনসহ ৬ জন বিনা বেতনে ১২ বছর শিক্ষতায় দায়িত্ব পাল করেছেন। এই কলেজ দেখবাল করতে বিগত দিনে সাহায্য সহযোগিতা করে আসছি আগামী দিনে যা দরকার সব ধরনের সাহায্য সহযোগিতা করে যাব। কলেজ এর শিক্ষক/শিক্ষার্থীদের কথা চিন্তা করে কলেজটি এমপিও ভুক্ত করা দরকার।

শেয়ার করুন

0 comments: