Monday, June 4, 2018

পলাশের সুস্বাদু আনারসের সুনাম দেশজুড়ে

মো:সাব্বির হোসেন,স্টাফ রিপোর্টার:
নরসিংদীর পলাশ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় স্বাদ ও গুনগত মানের যে ফল পাওয়া যায় তার মধ্যে অন্যতম ফল জিনারদী ইউনিয়নের রাবানের আনারস।যার সুনাম ও সুখ্যাতি পলাশ ছাড়িয়ে এখন দেশজুড়ে।কিন্তু যত দিন যাচ্ছে ততই সময়রের বিবর্তনে হারিয়ে যাচ্ছে এর স্বাদ ও সুখ্যাতি।
রাবান এলাকায় আনারস চাষ প্রচুর পরিমানে হলেও ঘোড়াশাল পৌর এলাকার ভাগদী,চামরাবো,টেঙ্গরপাড়া সহ আরো কিছু এলাকায় স্বল্প পরিসরে চাষ হচ্ছে আনারস।সনাতন পদ্ধতিতে চাষ করায় ছোট হয়ে আসছে আকার,কমে যাচ্ছে ফলন।পোকামাকড়ের আক্রমনে নষ্ট হচ্ছে গুনগত মান।যার ফলে এ অঞ্চলের আনারসের ফলন কমে যাচ্ছে।
একসময় পলাশের আনারস জেলার চাহিদা পুরণ করে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সরবারহ করা হতো।এখন আর আগের অবস্থানে না থাকলে ও এর স্বাদ ও চাহিদা এখন ও আছে।
পাইকারি ব্যবসায়ী স্বপন জানান,এই এলাকার ঘোড়াশাল জাতের আনারস ক্রেতাদের কাছে সুপরিচিত থাকা সত্বেও আনারসের ফলন কম হওয়ায় বেশি দাম দিয়ে ক্রয় করতে হচ্ছে।তাই আমাদেরও বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।

ঢাকা থেকে আসা সোলায়মান কবির জানান,রাবান এলাকার লাল মাটির আনারস খেতে স্বাদে সুস্বাদু।অনেক আনারস ঢাকার বাজারে পাওয়া যায়।কিন্তু সেই আনারসের সাথে এই এলাকার আনারসের স্বাদ অনেক পার্থক্য আছে।তাই সময় পেলেই আমি ছুটে আসি এখানে আনারস ক্রয় করার জন্য।
এলাকার কৃষকরা জানান,এখানকার মাটি ঢালু হওয়ায় পানি ধারনের ব্যবস্থা না থাকায় বৃষ্টির পানির জন্য ভরসা করতে হয়।আনারস চাষে খরচ হয় প্রতি বিঘা ২৫হাজার থেকে ৩০ হাজার টাকা।প্রর্যাপ্ত সেচের অভাব ও সনাতন পদ্ধতিতে চাষ করার কারনে আগের চেয়ে তুলনামূলক ফলন কম পাওয়া যাচ্ছে।
পলাশ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আমিরুল ইসলাম নরসিংদী খবরকে জানান,পলাশ উপজেলার ১৪৫ হেক্টর জমিতে আনারসের চাষাবাদ হয়।জলবায়ু পরিবর্তন এবং একই জমিতে একই ফসল নিয়মিত চাষ করায় মাটির উর্বরতা নষ্ট হয়ে ফলন কম হচ্ছে।জৈব ও রাসয়নিক সার,পর্যাপ্ত সেচের ব্যবস্থা,বাগান পরিস্কার এবং প্রতিটি চারার নির্দিষ্ট দুরুত্ব বজায় রেখে চাষাবাদ করলে ফলন বেশি ও আনারসের আকার ও বড় হবে।

শেয়ার করুন

0 comments: