Friday, April 27, 2018

পলাশে ইজি ফ্যাশন মালিক জমি কিনে হয়রানির শিকার

মো:সাব্বির হোসেন,স্টাফ রিপোর্টার:
দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা স্বনামখ্যাত ইজি ফ্যাশন লিমিটেড নরসিংদীর পলাশ উপজেলার মানুষের কর্মসংস্থান বৃদ্ধির লক্ষে চার বিঘা জমি ক্রয় করায় হয়রানির অভিযোগ পাওয়া গেছে।
উপজেলার ডাংগা ইউনিয়নের ভিরিন্দা গ্রামে এ জমি কিনার একমাস পর স্বাক্ষর জালিয়াতির অভিযোগ করেন ৪নং ইউপি সদস্য মো:জালাল উদ্দিন।১৭ এপ্রিল পলাশ থানায় তিনি ইজি ফ্যাশন লিমিটেডের মালিক তিন ভাই ইছাদ চৌধুরী,তৌহিদ চৌধুরী,আসাদ চৌধুরী ও জমি বিক্রেতাসহ ১০জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন।
ঘটনার বিবরনে জানা যায়,ভিরিন্দা গ্রামের মৃত মহেষ চন্দ্র মিত্রের ছেলে মৃনাল মিত্র তাদের পৈত্রিক সম্পত্তি বিক্রি করার জন্য উত্তরাধিকার সনদ চেয়ে আবেদন করে ডাংগা ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত প্যানেল চেয়ারম্যান ও ৪নং ওয়ার্ড মেম্বার জালাল উদ্দিনের বরাবর।পরে তিনি উত্তরাধিকার ৬টি সনদে স্বাক্ষর করে তাদের প্রদান করেন।উল্লেখ্য,ঐ সময়ে চেয়ারম্যান সাবের-উল হাই ছুটিতে দেশের বাহিরে থাকায় তিনি এ দায়িত্ব পালণ করেন। এই ঘটনার একমাস পেরিয়ে গেলে জালাল উদ্দিন স্বাক্ষর জালের অভিযোগ এনে মামলা দায়ের করেন।এতে ইজি ফ্যাশন লিমিটেডের সুনাম নষ্ট ও মালিকদের হয়রানিতে পড়তে হয়।
ইজি ফ্যাশন লিমিটেডর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইছাদ চৌধুরী জানান,আমরা জমির দলিল যাচাই বাঁচাই করে সঠিক মালিকদের কাছ থেকে নগদ টাকা দিয়ে চার বিঘা জমি ক্রয় করি।এসময় চারটি দলিল করা হয়।জমির মালিকগণ উত্তরাধিকার সনদ চেয়ে ইউপি'র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জালাল উদ্দিনের কাছে আবেদন করলে তাদের প্রকৃত মালিক উল্লেখ করে তিনি সাক্ষর করেন এবং তার সাক্ষরিত ৬টি সনদ প্রদান করেন।কিন্তু এ জমি ক্রয়ের এক মাস পর একটি সাজানো মিথ্যা মামলা দিয়ে আমাদের হয়রানি করা হচ্ছে।অথচ এখানে আমরা পলাশ উপজেলার মানুষের কর্মসংস্থান বৃদ্ধির লক্ষে ফ্যাক্টরির জন্য এ জমি ক্রয় করেছিলাম।
জমির মালিক মৃনাল মিত্র জানান,আমাদের সম্পত্তি থেকে কিছু অংশ ইজি ফ্যাশন লিমিটেডের কাছে বিক্রি করার জন্য ১৩ মার্চ ইউনিয়ন পরিষদে উত্তরাধিকার সনদের জন্য ৬টি আবেদন পত্র সংগ্রহ করি।স্থানীয় সংরক্ষিত মহিলা ইউপি সদস্য ফজিলা আক্তারের প্রত্যায়ন পত্র সাক্ষরসহ পূরন করে ইউনিয়ন পরিষদে জমা দেই।পরে এখান থেকে ছয়টি সনদের জন্য পাঁচশত টাকা করে রশিদ দেয়।১৯শে মার্চ ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান সাক্ষরিত ৬টি সনদ জালাল মেম্বার আমাদের প্রদান করেন।সেই শর্ত পূরন করে ইজি ফ্যাশন লিমিটেডের কাছে বিক্রি করি।একমাস পর জানতে পারি উত্তরাধিকার সনদের মধ্যে চেয়ারম্যান সাক্ষর করেন নি।আমরা নাকি সাক্ষর জাল করেছি।আমরা তো সব নিয়ম মেনেই জমি বিক্রি করেছি।কোন উত্তরাধিকারকে বাদ ও দেওয়া হয়নি।এ নিয়ে কোন জালিয়াতি হয়নি।এখন মামলা দিয়ে আমাদের হয়রানি করছেন।
নয়ন মিত্র ও লালন মিত্র জানান,আমাদের ক্রয়কৃত সম্পত্তি আমরা বিক্রি করেছি ইজি ফ্যাশন লিমিটেডের কাছে।এ জন্য আমাদের উত্তরাধিকার সনদের প্রয়োজন নেই।তারপর ও জালাল মেম্বার আমাদের নামে উত্তরাধিকার সনদের সাক্ষর জালিয়াতির মামলা দিয়েছে।
এই বিষয়ে প্যানেল মেয়র জালাল উদ্দিন স্থানীয় সাংবাদিকদের জানান,এই জমির মালিক সঠিক।কিন্তু তারা আমার সাক্ষর জাল করে সনদ তৈরি করে।সনদের জন্য আবেদন করা হলেও এই সনদে আমি সাক্ষর করেনি।যার কারনে মামলা করা হয়।যাদের সনদ লাগেনি তাদের বিরুদ্ধে মামলা করা দেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি কোন প্রকার কথা বলতে চায়নি।ইজি ফ্যাশনের মালিকগণের নামে মামলার বিষয়ে তিনি বলেন,অনেক দিক থেকে অনেক চাপ আসে তা বুঝবেন না।
পলাশ থানার ওসি(তদন্ত) গোলাম মোস্তফা জানান,মামলার তদন্ত কাজ চলছে।তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

শেয়ার করুন

0 comments: